1. dailydeshbidesh@gmail.com : admin :
  2. deshbiseh@gmail.com : Adbul Wahid : Adbul Wahid
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জগন্নাথপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের পুরাতন মালামাল কম দামে গোপনে বিক্রি করায় জনতা কর্তৃক আটক।। জগনাথপুরে সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং জগন্নাথপুরে পেক আইডি দিয়ে সংক্রান্ত পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ-প্রচারে এলাকাবাসীর নিন্দা , থানায় জিডি দায়ের ।। জগন্নাথপুরের হবিবপুরে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে গ্রামের মান ক্ষুন্ন করায় প্রতিবাদ সভা।। যুক্তরাজ্য প্রবাসী কে মোবাইল ফোনে হুমকি দিল জার্মান প্রবাসী জগন্নাথপুরে যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি, এলাকাবাসীর নিন্দা।। জগন্নাথপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার- ৫ জগন্নাথপুরে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির প্রতিবাদে গ্রামবাসীর তীব্র নিন্দার ঝড় # জগনাথপুরে মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান সম্পন্ন

জগন্নাথপুরে ভন্ড কবিরাজ আবু লেইছের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।।

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৬৭৬

আব্দুল ওয়াহিদ,

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা পৌরশহরের জগন্নাথপুর গ্রামের ভন্ড কবিরাজ আবু লেইছ এর প্রতারনার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে এলাকাবাসী রুগীসহ দেশ বিদেশে থাকা প্রবাসীরা। লেখা পড়া না জানলেও সে এখন মস্ত বড় কবিরাজ। ঝাড় ফুক, যাদু টোনা বান,ভেদ এর হুমকি তার মূল হাতিয়ার। বিষয়টি এলাকার সব লোক জানলেও অজ্ঞাত কারনে কেউ এই প্রতারকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না । আবু লেইছ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে জীন লেলিয়ে দেওয়া, ভেদ, বান ও যাদু টোনার ভয়ে সবাই টটস্থ।
ভন্ড কবিরাজ অভিনব কায়দায় প্রতারনার মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রমতে, পৌরশহরের ৬ নং ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর গাংপাড় এলাকার বাসিন্দা কাশেম মিয়া পুত্র আবু লেইছ তার আসল নাম পরিবর্তন করে শাহ্ আবুল হায়াত নাম ধারন করে তার নানার বাড়ীতে ফকির বাড়ী নাম দিয়ে গড়ে তুলেছে তার আস্তানা। প্রতি দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই আস্তানায় বসে ভন্ড পীর ও কবিরাজ সেজে রোগী দেখে। রোগীদের অবস্থা বুঝে তার কাছে আসা বিভিন্ন এলাকার মানুষকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন তাবিজ-কবজ,ঝাড় ফুক, তেল পড়াসহ নানা রোগের সু- চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। এলাকাবাসী জানায় কথিত কবিরাজ দীর্ঘদিন যাবত এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এলাকাবাসী দেশ এবং বিদেশ থেকে অনেকেই অভিযোগ করেন, কথিত কবিরাজ ফুলতলী সাহেব বাড়ির দোহাই দেয়, শনি, মঙ্গল বারে নিশি রাতে শ্মশানে গিয়ে শ্মশানে ভূগ,কালির ভূগসহ সব ধরনের ভূগ ও ব্যবস্থাপত্রের কথা বলে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সহজ সরল নিরীহ মানুষকে ঠকাচ্ছে। তাদের সাথে করছে প্রতারনা। তার দেওয়া তদবিরে কোন কাজ হয়না বলে এলাকার অনেকেই অভিযোগ করেন। সম্প্রতি এক মহিলা লন্ডন থেকে তার ছেলের চিকিৎসার জন্য আবু লেইছ এর সাথে যোগাযোগ করলে সেই সব কিছু শুনে কবিরাজ আবু লেইছ তার কাছ থেকে কবিরাজি ও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ১৩ লক্ষ টাকা সোনালী ব্যাংক জগন্নাথপুর শাখায় তার শাহ আবুল হায়াত নামীয় একাউন্টে, বিকাশের মাধ্যমে, পিন নাম্বারে হাদিয়া নেয় ভন্ড কবিরাজ। পরবর্তীতে ঐ মহিলা সোনালী ব্যাংক জগন্নাথপুর শাখায় তার আবুল হায়াত নামীয় একাউনন্টে, বিকাশের মাধ্যমে, পিন নাম্বারে এবং তার এক নিকট আত্মীয়র নামে পিন নাম্বারে ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া ভন্ড কবিরাজ। হাদিয়া দিলে ভন্ড কবিরাজ বিভিন্ন ভুলভাল তাবিজ কবজ দেয় কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করার পর মহিলার কোন কাজে আসেনাই। শুধু তাই নয় একই সঙ্গে ভন্ড কবিরাজের কাছ থেকে তদবির গ্রহণ করেন বাড়ি জগন্নাথপুর গ্ৰামের আজিজুল ইসলামের পুত্র আকাবুর মিয়ার নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ ভন্ড ও প্রতারক কবিরাজ আবু লেইসের বিরুদ্ধে । অভিযোগকারীরা বলেন, কথিত ভন্ড কবিরাজ নিজেকে হাফেজ, মাওলানা, মুফতি পরিচয় দিয়ে থাকেন। অথচ সে মুফতি,মাওলানা,হাফেজ পাশ নন। অথচ প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত নিয়মিত বিভিন্ন রোগ- ব্যাধি জ্বীন-পরীর কথা বলে এবং তার বিভিন্ন মনগড়া বানোয়াট মিথ্যা কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ভন্ড কবিরাজ আবু লেইছ উরফে শাহ্ আবুল হায়াত এর বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর পৌরশহরের ৫নং ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের গন স্বাক্ষরিত অভিযোগ ৩০ জানুয়ারী সোমবার জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবরে দায়ের করেন। অভিযোগে প্রকাশ সে একজন ভন্ড, প্রতারক ও আইন অমান্যকারী উশৃখল প্রকৃতির লোক। বিবাদী এক সময় এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত ছিল। এক পর্যায় বেছে নেয় প্রতারনার নানা কৌশল। প্রায় ৭/৮ বছর যাবত নিজের আসল নাম বাদ দিয়ে শাহ্ আবুল হায়াত নাম ধারন করে নিজেকে পীর পরিচয় দিয়ে কবিরাজী ব্যবসা শুরু করে। ধীরে ধীরে তার প্রতারনার পরিধি বৃদ্ধি পায়, তার প্রতারনার কৌশল হিসাবে বিভিন্ন এলাকায় দালাল নিয়োগ করে। উক্ত দালালদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সহজ সরল লোকজনের সমস্যা, অসুস্থতার খবরা খবর নিয়ে দেশ ও বিদেশে চিকিৎসার কথা বলে তার আস্তানায় এনে নানা কৌশলে চিকিৎসা ও কবিরাজীর কথা বলে তাবিজ কবজ ও বিভিন্ন ভয় ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তার প্রতারনার মূল টার্গেট হচ্ছে প্রবাসী। প্রথমে প্রবাসীদের বিভিন্ন ভাবে কবিরাজীর কথা বলে তার ব্যাংকের একাউন্টের ও বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ইতিপূর্বে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লহড়ী গ্রামের লন্ডন প্রবাসী মহিলার কাছ থেকে কবিরাজি,প্রতারণা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে ২ লক্ষ ৪৫ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারনার দায়ে জগন্নাথপুর পৌরসভা কার্যালয়ে শালীস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১ লক্ষ্ ১৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। সালিশ বৈঠকে আবার পরবর্তীতে এই ধরনের কাজ করলে আইনগত ব্যবস্থাসহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত হয়। এই ছাড়াও বাড়ী জগন্নাথপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী আসলমা বিবির কাছ থেকে কবিরাজির কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ব্যাপারে ও শালীস বৈঠকে ১৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে পরবর্তীতে আর এই ধরনের কাজ করবেনা বলে অঙ্গিকার করে। জগন্নাথপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের পুত্র আকাবুর মিয়ার নিকট থেকে প্রতারনার মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এই বিষয়ে ও শালীস বৈঠক হয় এবং টাকা ফেরত দিয়ে ক্ষমা চায়। বাড়ী জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত মাওলানা ছোয়াব মুন্সির ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইউছুপ আলীর কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এত কিছুর পর ও থামছেনা তার প্রতারনা। সম্প্রতি পৌর শহরের ইসহাকপুর গ্রামের এক লন্ডন প্রবাসী মহিলার নিকট থেকে তার ছেলের চিকিৎসার কথা বলে ও বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি দেখিয়ে ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় ভন্ড কবিরাজ আবু লেইছ। প্রতারনার টাকায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মান করেছে আলিশান বাড়ী। প্রতারনার কৌশল হিসাবে বাড়ীতে ফকির বাড়ী হিসাবে ঝুলিয়েছে সাইনবোর্ড। দেশ ও বিদেশে তার প্রতারনার শিকার হয়ে জগন্নাথপুর গ্রামের মুরব্বিদের নিকট বিচার প্রার্থী হয় ভোগক্তভোগী লোকজন। ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এই ভন্ড কবিরাজের কুকর্মের কারনে। এতে ক্ষুন্ন হয় গ্রামের মানসম্মান যাহা গ্রাম ও এলাকার মানহানির সামিল। প্রতারনার বিষয় আমাদের গ্রামের মুরব্বিরা জিজ্ঞাসা করলে মুরব্বিদের যাদু টোনার মাধ্যমে ক্ষতি সাধন করার হুমকী দিয়ে থাকে। তার যাদু টোনার ভয়ে গ্রামের অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খোলতে নারাজ। তার এহেন হুমকী, অশালিন ও অশ্লীল ব্যবহারের আজ থেকে রেহাই পায়নি গ্রামের মসজিদের ইমাম, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ। তার এহেন কার্যকলাপে নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন গ্রামবাসী।

পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরো সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021 দৈনিক দেশ বিদেশ
Design and developed By: Syl Service BD